খ্রীষ্ট আমাদের জন্য মরলেন
দ্রষ্টব্য: এই প্রবন্ধটি সুসমাচার-ধারাবাহিকের একটি অংশ এবং পাপের বেতন মৃত্যু প্রবন্ধের পরবর্তী অংশ।
“কারণ ঈশ্বর জগতকে এত ভালবাসলেন যে, নিজের একমাত্র পুত্রকে দান করলেন,
যেন যে কেউ তাঁতে বিশ্বাস করে
সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।
কারণ ঈশ্বর জগতকে দোষী প্রমাণ করতে পুত্রকে জগতে পাঠাননি
কিন্তু জগত যেন তাঁর মাধ্যমে পরিত্রান পায়।
যে তাঁতে বিশ্বাস করে তাকে দোষী করা হয় না।
যে বিশ্বাস না করে তাকে দোষী বলে আগেই ঠিক করা হয়েছে
কারণ সে অদ্বিতীয় ঈশ্বরের পুত্রের নামে
বিশ্বাস করে নি।”
যোহন 3:16-18
ঈশ্বর মানুষকে ভালবাসেন এবং পাপীদের নিজের সঙ্গে মিলিত করতে চান বলে তিনি তাঁর পুত্রকে জগতে পাঠালেন, যেন তিনি মারা যান এবং পাপের মূল্য পরিশোধ করেন।
খ্রীষ্ট মারা গেলেন, কবর পেলেন এবং আবার জীবিত হলেন…
“ফলে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা দিয়েছি এবং এটা নিজেও পেয়েছি যে, শাস্ত্রানুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মারা গেলেন।
ও কবরপ্রাপ্ত হলেন, আর শাস্ত্রানুসারে তিনি তৃতীয় দিনের উত্থাপিত হয়েছেন;”
1 করিন্থীয় 15:3-4
খ্রীষ্ট কেবল আমাদের পাপের জন্য মারা যাননি, তাঁকে কবরও দেওয়া হয়েছিল, আর তিন দিন পরে তিনি মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠলেন।
“…তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন…”
মথি 28:6
“তাঁকে ঈশ্বর তৃতীয় দিনের ওঠালেন…”
প্রেরিতদের কার্য্য 10:40
“…ঈশ্বর তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করলেন।”
প্রেরিতদের কার্য্য 13:30
তারপর, পৃথিবীতে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে 40 দিন কাটানোর পর, তিনি স্বর্গে উঠে গেলেন।
“…তিনি তাঁদের চোখের সামনে স্বর্গে উঠে যেতে লাগলেন…”
প্রেরিতদের কার্য্য 1:9
“এই যীশুকেই ঈশ্বর মৃত্যু থেকে তুলেছেন…
ঈশ্বরের ডান পাশে উত্থানের পর…”
প্রেরিতদের কার্য্য 2:32,33
খ্রীষ্ট… একমাত্র পথ
“যীশু তাঁকে বললেন,
“আমিই পথ, আমিই সত্য এবং আমিই জীবন;
আমাকে ছাড়া কেউ
পিতার কাছে যেতে পারে না।”
যোহন 14:6
“এর মানে হলো, ঈশ্বর খ্রীষ্টের মাধ্যমে নিজের সঙ্গে পৃথিবীর মিলন করছিলেন…”
2 করিন্থীয় 5:19
“আর অন্য কারোও কাছে পরিত্রান নেই,
কারণ আকাশের নীচে ও মানুষদের মধ্যে দত্ত
এমন আর কোনোও নাম নেই
যে নামে আমরা পরিত্রান পেতে পারি।”
প্রেরিতদের কার্য্য 4:12
যীশু খ্রীষ্ট তাঁর মৃত্যু ও সেচন করা রক্ত, তাঁর কবর ও তাঁর পুনরুত্থানের মাধ্যমে পথ তৈরি করেছেন, যেন মৃত ও দোষী পাপীরা ক্ষমা পায় এবং ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হতে পারে।
শত শত বছর ধরে মানুষ অন্য দেবতাদের প্রতি নিষ্ঠার মাধ্যমে তার পাপময় অবস্থার প্রতিকার করার চেষ্টা করে এসেছে – আর এই মুহূর্তেও সেই চেষ্টা করে চলেছে।
তবুও ঈশ্বরের ভিত্তি অটল থাকে…
“…আমিই পথ, আমিই সত্য এবং আমিই জীবন; আমাকে ছাড়া কেউ পিতার কাছে যেতে পারে না।”
“আর অন্য কারোও কাছে পরিত্রান নেই… যে নামে আমরা পরিত্রান পেতে পারি।”
মৃত্যু থেকে জীবনে যাওয়ার পথ
সত্য, সত্যই বলছি
যে কেউ আমার বাক্য শুনে
এবং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁকে বিশ্বাস করে
সে অনন্ত জীবন পেয়েছে
এবং তাকে দোষী করা হবে না
কিন্তু সে মৃত্যু থেকে জীবনে পার হয়ে গেছে।
যোহন 5:24
এই শাস্ত্রাংশে যীশু প্রতিজ্ঞা করেছেন যে যারা শোনে ও বিশ্বাস করে, তারা সবাই এগুলি পাবে।
1. অনন্ত জীবন
এটি এমন জীবন যা চিরকাল চলতে থাকে, কোনো শেষ নেই, অনন্তকাল পর্যন্ত। দৈহিকভাবে মারা যাওয়ার পরেও, এই প্রতিজ্ঞা অনুসারে আমরা বেঁচে থাকব। কেমন জীবন? অনন্ত জীবন!
2. দোষী করা হবে না
রোমীয় 5:18 পদে ঈশ্বর বলেন:
অতএব যেমন এক জনের অপরাধ দিয়ে সব মানুষকে শাস্তির যোগ্য বলে ধরা হয়েছে,
ঠিক তেমনি ধার্মিকতার একটি কাজের মধ্য দিয়ে অর্থাৎ যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে সব মানুষকে ধার্মিক বলে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং অনন্ত জীবন পেয়েছে।
তাই যে দোষের অধীনে আমরা জন্মেছিলাম, প্রভু যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করলে তা দূর করা যায়।
3. “…সে মৃত্যু থেকে জীবনে পার হয়ে গেছে।”
মনে রাখবেন: মানুষ আত্মিকভাবে মৃত অবস্থায় জন্মায়, কিন্তু এই প্রতিজ্ঞা অনুসারে খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে তাকে আত্মায় জীবিত করা যায়।
পাপে মৃত আমাদেরকে,
খ্রীষ্টের সঙ্গে জীবিত করলেন
অনুগ্রহেই তোমরা মুক্তি পেয়েছ,
ইফিষীয় 2:5
যখন তোমরা তোমাদের পাপে এবং তোমাদের দেহের অত্বকছেদে মৃত ছিলে,
তখন তিনি তাঁর সঙ্গে তোমাদের জীবিত করেছিলেন
এবং আমাদের সব পাপ ক্ষমা করেছিলেন।
কলসীয় 2:13
সংক্ষেপে
- যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পাপের মূল্য পরিশোধ করার জন্য মারা গেলেন।
- তাঁকে কবর দেওয়া হল, তৃতীয় দিনে তিনি আবার জীবিত হলেন এবং স্বর্গে উঠে গেলেন।
- মৃত ও দোষী পাপীদের উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র পথ তিনিই।
- তিনি প্রতিজ্ঞা করেন মৃত্যুর পরে জীবন, আমাদের পাপের জন্য কোনো দোষ বা শাস্তি নয়, আর আমরা আর আত্মিকভাবে মৃত থাকব না, বরং আমাদের আত্মায় জীবিত হব।
আরও জানতে ভিডিও শিক্ষাটি দেখুন (ইংরেজিতে): Does God Keep Records?