এই প্রবন্ধটি পাঠককে শাস্ত্রের আলোকে এই প্রশ্নটি পরীক্ষা করে দেখতে আহ্বান জানায়: প্রতি সপ্তাহে কি কেবল একজন পালকই প্রচার করবেন – নাকি প্রচার আসবে সকল পুরুষের কাছ থেকে (পবিত্র আত্মা যেভাবে পুরুষদের কথা বলতে চালিত করেন)? অনুগ্রহ করে এই শাস্ত্রাংশটি বিবেচনা করুন:
এটা খুবই স্পষ্ট ছিল যে, এর উদ্দেশ্য ছিল প্রত্যেকের নিজ নিজ অবদানের মাধ্যমে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলা (1 করিন্থীয় 14:5,16)। ইফিষের মণ্ডলীর কাছে লেখা পৌলের চিঠিতেও আমরা একই কথা দেখতে পাই:
ঈশ্বর ভিন্ন ভিন্ন মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন দান দিয়েছেন, যেন “ঈশ্বরের আরো অনেক অনুগ্রহ দানের” মধ্য দিয়ে মণ্ডলী গেঁথে ওঠে (1 পিতর 4:10)। একজন মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের সব রকম দান থাকে না। তাই খ্রীষ্টের দেহকে গেঁথে তোলার পুরো দায়িত্ব একজন মানুষ একা বহন করতে পারেন না। 1 করিন্থীয় 12 অধ্যায়ে পৌল আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, দেহকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে:
এখানে দিয়ত্রিফি নামে একজন মানুষের উদাহরণ দেখা যায়, যিনি প্রাধান্য পেতে ভালবাসতেন, অর্থাৎ দলের উপর কর্তৃত্ব করতে ভালবাসতেন। একজন মানুষ পুরো মণ্ডলী পরিচালনা করলে তা বিপজ্জনক। তাতে পারস্পরিক জবাবদিহি ও ভারসাম্যের কোনো জায়গা থাকে না। এমনকি (আমেরিকার) সংবিধানের রচয়িতারাও প্রাচীনদের পরিষদের (প্রেসবিটারির) ধারণা অনুসরণ করে, অর্থাৎ একদল মানুষ একসঙ্গে নেতৃত্ব দেবেন এই ভাবনা থেকে, তাঁদের শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। মণ্ডলীর প্রাচীনদের প্রতি পিতরের নির্দেশ ছিল, “তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তার পালন কর” (1 পিতর 5:2), কিন্তু “যে অধিকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার উপরে প্রভুর মতো নয়, কিন্তু পালের আদর্শ হয়েই কর।” (1 পিতর 5:3)।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, প্রতি সপ্তাহে একত্র হওয়ার কারণগুলো হল: (1) রুটি ভাঙা (প্রেরিতদের কার্য্য 2:42), (2) প্রার্থনা, (3) প্রেরিতদের শিক্ষা, (4) ভালবাসা ও ভালো কাজের জন্য একে অপরকে উৎসাহ ও চেতনা দেওয়া (ইব্রীয় 10:24-25), (5) গীত, স্তোত্র ও আত্মিক গানের মধ্য দিয়ে একে অপরকে শিক্ষা ও চেতনা দেওয়া:
না। মনে হয়, মাঝে মাঝে কেউ কোনো এলাকার মণ্ডলীতে আসতেন এবং বাক্য প্রচার করতেন। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলেন পৌল, যিনি ত্রোয়াতে মণ্ডলীর কাছে প্রচার করেছিলেন। তাঁরা সপ্তাহের প্রথম দিনে রুটি ভাঙার জন্য একত্র হয়েছিলেন, এবং পৌল “শিষ্যদের কাছে মধ্যরাএি পর্যন্ত বক্তৃতা দিয়েছিলেন” (প্রেরিতদের কার্য্য 20:7)।
কিন্তু যদি প্রতি সপ্তাহে কেবল একজন মানুষই প্রচার করেন, আর একে অপরকে উৎসাহ ও চেতনা দেওয়ার বা অন্যদের কথা শোনার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে ঈশ্বর যেভাবে নির্ধারণ করেছেন সেভাবে দেহ গেঁথে ওঠে না। আর “তোমরা ভ্রান্ত হয়ো না, ঈশ্বরকে ঠাট্টা করা যায় না, কারণ মানুষ যা কিছু বোনে তাই কাটবে।” (গালাতীয় 6:7)। আমরা যা বুনি, তা-ই কাটব। আমরা যদি ঈশ্বরের বাক্যের শিক্ষা যত্নের সঙ্গে অনুসরণ না করি, তাহলে মণ্ডলী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মণ্ডলীর সত্যিকারের বৃদ্ধি কেবল বাধ্যতা থেকেই আসতে পারে – তিনি যেভাবে নির্ধারণ করেছেন, ঠিক সেভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে (যিহোশূয় 1:8, গীতসংহিতা 37:23, 1 করিন্থীয় 14:40)।
আমাদের প্রার্থনা এই যে, এখানে যা লেখা হয়েছে তা আপনি বিবেচনা করবেন, এবং বিরয়ার লোকদের মতো প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করে দেখবেন, এসব কথা সত্য কিনা: