খ্রীষ্টে প্রিয় ভাইয়েরা,
আমি প্রার্থনা করি, প্রভু যেন তাঁকে জানার বিষয়ে আপনাদের জ্ঞানের ও প্রকাশের আত্মা দেন, এবং আমাদের প্রতি তাঁর শক্তির অসীম মহত্ত্ব জানার বিষয়ে আপনারা যেন বেড়ে ওঠেন – তাঁর সেই মহাশক্তির কার্যকারিতা অনুযায়ী, যা তিনি খ্রীষ্টে সাধন করেছিলেন যখন তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করে স্বর্গীয় স্থানে নিজের ডান দিকে বসিয়েছিলেন। আমরা সবাই যেন আরও আগ্রহের সঙ্গে জ্ঞানের জন্য ডাকি, রূপার মতো তার খোঁজ করি এবং লুকানো সম্পদের মতো তার সন্ধান করি, যেন আমরা ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা লাভ করি এবং তাঁর পুনরুত্থানের শক্তি খুঁজে পাই, বুঝতে পারি ও সেই অনুযায়ী চলতে পারি।
যেহেতু আমি “…তোমাদেরকে মনে করিয়ে দিয়ে তোমাদের শুচি মনকে জাগ্রত করছি, যেমন পবিত্র ভাববাদীরা আগে যেসব কথা বলে গেছেন ও তোমরা প্রেরিতদের কাছে যে আদেশ উদ্ধারকর্তা প্রভু দিয়েছেন তা যেন তোমরা মনে কর।” (2 পিতর 3:1-2), তাই অনেকদিন ধরেই আমার আগের চিঠির পরবর্তী কথাগুলো লিখতে চাইছিলাম, কিন্তু কিছুতেই সময় করে উঠতে পারছিলাম না। এটিও যেন আর একটি কখনও-না-লেখা চিঠি হয়ে না থাকে, তাই আমি ঠিক করলাম, নীরব সময়ের আমার একটি পুরানো খাতা বের করে, 1991 সালের জানুয়ারি মাসে ফল ধারণ সম্বন্ধে প্রভু আমাকে যে ভাবনাগুলো দিয়েছিলেন, তার কিছু অংশ শুধু টুকে দেব। এটি এই প্রশ্নের উত্তর দেয়: “আমাদের চালিকাশক্তি কী হওয়া উচিত, আমাদের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?” – আমার সহজ, সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে। আমি প্রার্থনা করি, এটি আপনার কাজে আসবে। সবসময়ের মতো, আমি শুধু এটুকু চাই যে, আমি যা বলি তা আপনি বিবেচনা করুন, এবং প্রভু যেন সব বিষয়ে আপনাকে বুদ্ধি দেন (প্রেরিতদের কার্য্য 17:11, হিতোপদেশ 14:12,15, ইয়োব 34:3-4)।
তাই আমি যদি কেবল অনেক ফলে ফলবান হতে পারি, তাহলে তুমি গৌরবান্বিত হবে, আর আমি আমার অস্তিত্বের উদ্দেশ্য পূর্ণ করব!!! তাহলে… আমি কীভাবে অনেক ফলে ফলবান হব???
“যে কেউ আমার মধ্যে থাকে এবং আমি তার মধ্যে,
সেই লোক অনেক ফলে ফলবান হবে,”
যোহন 15:5
তাই আমি যদি কেবল তোমার মধ্যে থাকতে পারি এবং তুমি আমার মধ্যে, তাহলে আমি:
#1 অনেক ফলে ফলবান হব
#2 ঈশ্বরকে গৌরব দেব!
তাহলে, আমি কীভাবে খ্রীষ্টের মধ্যে থাকব এবং তাঁকে আমার মধ্যে থাকতে দেব? তোমার বাক্য কী বলে?
(এখানে “থাকে” কথাটির মূলে সেই একই গ্রিক শব্দ, যা যোহন 15 অধ্যায়ে ব্যবহৃত হয়েছে।)
যদি অনেক ফলে ফলবান হওয়া = ঈশ্বরকে গৌরব দেওয়া হয় (যোহন 15:8),
তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য হল অনেক ফলে ফলবান হওয়া।
যদি খ্রীষ্টের মধ্যে থাকা এবং তাঁর আমাদের মধ্যে থাকা অনেক ফল উৎপন্ন করে (যোহন 15:5),
তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য হল খ্রীষ্টের মধ্যে থাকা এবং তাঁকে আমাদের মধ্যে থাকতে দেওয়া।
যদি তাঁর আদেশ পালন করার অর্থ হয় তাঁর মধ্যে থাকা এবং তাঁর আমাদের মধ্যে থাকা
(যেমন 1 যোহন 3:24-এ লেখা আছে),
তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য হল তাঁর আদেশ পালন করা!!!
বাস্তব প্রয়োগ: আমি প্রার্থনার সঙ্গে তাঁর বাক্য ধ্যান করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে খোঁজাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার করব, আর তিনি যখনই কথা বলবেন, যখনই তাঁর আত্মার মাধ্যমে আমাকে তাগিদ দেবেন, তখনই তাঁর বাধ্য হওয়াই আমার সংকল্প। এর চেয়ে কম কিছু হলে আমি আমার অস্তিত্বের উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারব না।
তবে মনে রাখবেন, বিশ্বাসের সুসমাচার শুনে “…পবিত্র আত্মাতে শুরু করে…” আমরা “…এখন কি মাংসে শেষ করবে?” (গালাতীয় 3:2-3) – না। যেভাবে আমরা অনুগ্রহে বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিত্রাণ পাই, ঠিক সেভাবেই আমরা পবিত্রও হয়ে উঠি, যেমন কলসীয় 2:6-এ বলা আছে, “খ্রীষ্ট যীশুকে তোমরা যে ভাবে প্রভু হিসাবে গ্রহণ করেছ ঠিক সেইভাবে তাঁর পথে চল।” তাই যদিও আমাদের ভিতরের সবকিছু দিয়ে আমাদের তাঁর বাধ্য হতে হবে, তবুও আমাদের নির্ভরতা কখনও নিজেদের উপর, আমাদের চেষ্টার উপর, আমাদের দেখার ক্ষমতার উপর বা আমাদের কাজ করার ক্ষমতার উপর থাকা উচিত নয়। ফিলিপীয় 3:3-এ যেমন বলা আছে, আমাদের “…খ্রীষ্ট যীশুতে গর্ব করি, দেহের উপর নির্ভর করি না।” – কারণ তিনি, এবং কেবল তিনিই, আমাদের কোনো কিছু করার শক্তি দেন। আমরা যখন ঈশ্বরের বাক্যের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পাই, তখন নিশ্চিত থাকতে পারি যে, তাতে আমাদের নিজেদের কোনো অবদান নেই। মনে রাখবেন, যীশু পিতরকে বলেছিলেন, “যোনার পুত্র শিমোন, ধন্য তুমি! কারণ রক্ত ও মাংস তোমার কাছে এ বিষয় প্রকাশ করে নি, কিন্তু আমার স্বর্গস্থ পিতা প্রকাশ করেছেন।” পিতর তা বুঝতে পেরেছিলেন এবং প্রভুর প্রশংসা পেয়েছিলেন, কিন্তু গৌরব দেওয়া হয়েছিল ঈশ্বরকে। ঈশ্বরের আত্মা যখন আমাদের কাছে কিছু প্রকাশ করেন এবং আমাদের মধ্যে বাধ্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে, তা-ও আমাদের নিজেদের থেকে আসে না। “কারণ ঈশ্বরই নিজের সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের হৃদয়ে ইচ্ছা ও কাজ উভয়ের সাধনকারী।” (ফিলিপীয় 2:13)। আমাদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, কারণ “দেহের মনোবৃত্তি হলো ঈশ্বরের বিরুদ্ধতা, আর তা ঈশ্বরের আইন মেনে চলতে পারে না, বাস্তবে হতে পারেও না।” (রোমীয় 8:7)। তাই আমরা যখন বুঝতে পারি যে, ঈশ্বরের বাধ্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের আছে, তখন সেটাও ঈশ্বরই আমাদের দিয়েছেন। আর দেখার পর এবং বাধ্য হওয়ার ইচ্ছা পাওয়ার পর আমরা যখন “তাঁর আদেশ পালন” করার শক্তি পাই, তখন ঈশ্বর, এবং কেবল ঈশ্বরই, আমাদের সেই শক্তি দিয়েছেন। “কারণ ঈশ্বরই নিজের সন্তুষ্টির জন্য…কাজ…সাধনকারী।” হ্যাঁ, তাঁর বাধ্য হওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের নিতেই হবে, এবং আমাদের সমস্ত হৃদয়, সমস্ত প্রাণ, সমস্ত মন ও সমস্ত শক্তি দিয়ে তাঁর সেবা করতে ইচ্ছুক হতে হবে; কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহে আমরা যখন তা করার শক্তি পাই, তখন শাস্ত্রসম্মত একমাত্র কাজ হল কেবল তাঁরই প্রশংসা করা। আমরা সমস্ত হৃদয় দিয়ে বাধ্য হই, কিন্তু নিজেদের চেষ্টার উপর বিন্দুমাত্রও নির্ভর করি না। আমরা আমাদের ইচ্ছা দিয়ে বাধ্য হই, কিন্তু আমাদের নির্ভরতা থাকতে হবে কেবল খ্রীষ্ট যীশুর উপর, যিনি আমাদের জন্য মরলেন, কবর পেলেন এবং আবার জীবিত হয়ে উঠলেন। কারণ কেবল তিনি মরেছিলেন, কবর পেয়েছিলেন ও পুনরুত্থিত হয়েছিলেন বলে, এবং আমরা তাতে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি বলেই, আমরা নতুন জীবনে চলতে পারি এবং “তাঁর আদেশ পালন” করতে পারি। কেবল অনুগ্রহে, কেবল বিশ্বাসে, কেবল খ্রীষ্টে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি এবং তাঁর বাধ্য হওয়ার ক্ষমতা পেয়েছি।
আমি আশা করি, এই কথাগুলো শুধু টাইপ করতে গিয়ে আমি যতটা আনন্দ পেয়েছি, ঈশ্বরের এই বাক্যগুলো নিয়ে ভাবতে গিয়ে আপনিও ততটাই আনন্দ পাবেন। সত্যিই “…সমস্ত নির্দেশ ঠিক, হৃদয়কে আনন্দিত করে…” (গীতসংহিতা 19:8)।
এই বিষয়ে আপনার কোনো মতামত, আরও কোনো ভাবনা, বা একই ধরনের কিছু যদি আমাকে জানাতে চান, আমি সত্যিই খুব খুশি হব।
আপনি যেন সমস্ত প্রজ্ঞা ও আত্মিক বুদ্ধিতে তাঁর ইচ্ছার জ্ঞানে পূর্ণ হন, যেন প্রভুর যোগ্যভাবে চলেন ও সব বিষয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করেন, সব ভাল কাজে ফলবান হন এবং ঈশ্বরের জ্ঞানে বেড়ে ওঠেন।
তাঁর সেবায়,
একজন সহদাস